মির্জা গালিব কে তো সবাই ই কম বেশি চিনেন। হয়তো জানেন না তার সঠিক পরিচয়। তিনি কিন্তু একজন ফারসি লেখক। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উক্তি বা কবিতা লিখেছেন যা সাধারন পাঠকের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। আমরা এই পোস্টে আমরা মির্জা গালিব এর শায়েরি সমূহ বিভিন্ন সময়ের লেখা থেকে আর বিভিন্ন কবিতার অংশ থেকে নিয়ে তালিকা করেছি।
মির্জা গালিব এর শায়েরি
মির্জা গালিব এর শায়েরি হলো মির্জা গালিবের লেখা বিভিন্ন উক্তি যা তিনি বিভিন্ন ভাবে লিখেছেন, কখনো হয়তো কবিতার মধ্যে, কখনো হয়তো তার কোন উপন্যাসে বা কখনো সরাসরি লিখেছেন। আমরা এখানে সেরা সেরা সকল শায়েরি গুলো তালিকা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি মির্জা গালিব এর শায়েরি গুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
জী ঢুন্ডতা হ্যায় ফির ওহী
ফুরস্তকে রাত দিন,
বৈঠে রহে তসৌবুরে
জানা কিয়ে হুয়ে ৷(হৃদয় আবার খুঁজে ফেরে ছুটির সেই রাতদিন,
নিজেকে হারিয়ে বসে থাকতাম যখন প্রিয়ার ভাবনায় ৷)
ইশ্ক মুঝকো নহীঁ,
বহশত্ হী সহী
মেরী বহশত্,
তেরী শোহর্ত হী সহী ৷(প্রেম যদি একে না-ই বলো, পাগলামিই মানি ৷
আমার পাগলামি – তোমার খ্যাতির কারণ, এ কথাও মানি ৷)
মাঙ্গে হ্যায় ফির কিসিকো
লবে বাম পর হওবস,
জুলফে সিয়াহ রুখপে
পরেশো কিয়ে হুয়ে ৷(মন চায় আবার কারোকে, ঠোটের কোণে জমে থাকা
কামনায়, মুখের পরে যার অন্ধকারের খেলা
কালো কেশরাশির উচ্ছসিত খেয়ালীমায় ৷)

দেখনা কিসমত্,
কি আপ আপনেপে রশ্ক আ যায়ে হ্যায়,
ম্যাঁয় উসে দেখু,
ভলা কব্ মুঝসে দেখা যায়ে হ্যায় ৷(নিজের ভাগ্য দেখে আমি নিজেই জ্বলে যাচ্ছি ঈর্ষার
আগুনে ৷ তাকে দেখবার অনুমতি পাব, কবেই বা
আমি প্রস্তুত ছিলাম এমন ভাগ্য দর্শনে ?)
বিজলী ইক কৌঁ গই
আঁখোকে আগে তো ক্যা
বাত করতে কি ম্যাঁয়
লব-এ-তিশ্ না এ তকরীর ভী থা ৷(তুমি বিদ্যুৎ-এর একটি ঝলকের মতো আমার আঁখির
সামনে দিয়ে চলে গেলে তো কি, তোমার সঙ্গে কথা
বলার জন্য ব্যাকুল আমার এ অধরকে তৃষ্ণার্ত তো
রেখে গেলে !?)
জান তুম পর
নিসার করতা হুঁ,
ম্যাঁয় নহীঁ জানতা,
দুয়াঁ ক্যা হ্যায় ৷(আমার এ প্রাণ উৎসর্গীকৃত তোমাতেই ৷ তবে জানিনা
আমি সে পূজা, প্রার্থনা নিবেদন করতে হয় কি করে ৷)
জিকরো উস্ পরীওয়াস্-কা
অওর ফির বয়াঁ আপনা,
বন গয়া রকীব আখির
থা যো রাজদাঁ আপনা ৷(কথা সেই রূপসীর আর বলার ধরণ আমার-শেষ
পর্যন্ত শত্রু হয়ে গেল তারা, এতদিন যারা মিত্র ছিল আমার ৷)
আখঁ কী তসবীর সরমানেপে
খেচী হ্যায়, কি তা,
তুম পেখুল জাবে,
কি ইসকো হসরতে দীদার হ্যায় ৷(তোমার লজ্জত আঁখির সে ছবি এমনই তুলে নিয়েছি
আমি আমার মানসপটে যাতে তুমি জানতে পারো
সে ছবি দর্শনের কেমন অভিলাসী আমি ৷)
ইয়ে হম যো হিজরোমে
দীবারো-দরকো দিখতে হ্যায়
কভী সবা কো
কভী নামাবরকো দেখতে হ্যায় ৷(তার বিরহদশায় শুধু দেওয়াল আর দরজার দিকে
আমার দিন কেটে যায় ৷ কখনো পূবালী বাতাস স্নিগ্ধ পরশে
তার বারতা বয়ে নিয়ে আসে ৷ কখনো পত্রবাহকেই ফিরে
আসতে দেখি যেন ৷)
কভী নেকী ভী উসকে জী মে
গর আ যায়ে হ্যায় মুঝসে,
জঁফায়ে করকে আপনী ইয়াদ
শরমা যায়ে হ্যায় মুঝসে ৷(আমার ভালো করার ইচ্ছাও যদি কখনো তার মনে
আসে নিজের পূর্ব্বকৃত নিষ্ঠুরতার কথা স্মরণ করে,
লজ্জায় তার মুখ রাঙা হয়ে ওঠে ৷)
দিল হী তো হ্যায় না সঙ্গোঁ-খি
দর্দসে ভর না যায়ে কিঁউ
রোয়েঙ্গে হম হজারবার
কৌই হমে সতায়ে কিঁউ ?(এ-তো একটা হৃদয়ই, ইঁট-পাথর তো নয়,
তাহলে বেদনায় ভরে উঠবে না কেন ? কাঁদবো আমি
হাজারবার তবু কেউ আমায় এমন কাঁদাবে কেন ?)
ম্যাঁয়নে মানা কি
কুছ নহীঁ ‘গালিব’,
মুখত্ হাথ আয়ে,
তো বুরা ক্যা হ্যায় ৷(এ কথা মানি যে ‘গালিব’ এর কোনো মূল্যই নেই ৷
কিন্তু যে তার হৃদয়টা একেবারে বিনামূল্যেই পেয়েছে,
তার গ্রহণ করতে অসুবিধা কি ?)
দিয়া হ্যায় দিল অগর উসকো
বশর হ্যায়, ক্যা কহিয়ে,
হুয়া রকীব, তো হো,
নামাবর হ্যায়, ক্যা কহিয়ে ৷(আমার পত্রবাহকই হলো শত্রু আমার তাকে
আর কি বলবো আমি ৷ সেও যে দিয়ে এলো নিজের হৃদয়ই
আমার প্রিয়াকে ৷ সেও তো মানুষ, তাকেই বা কি আর বলবো ৷)

করতা হু জমা
ফির জিগর-লখ্ত-ল্খত কো,
অরসা হুয়া হ্যায়
দাবত-এ-মিজগাঁ কিয়ে হুয়ে ৷(দুরাশায় আবার এক জায়গায় জড়ো করছি ভেঙ্গে
টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া হৃদয়টাকে আমার ৷
অনেকদিন তো হয়ে গেল তার সুন্দর আঁখি-পল্লব
ছায়ায় ঘেরা দৃষ্টির আমন্ত্রণে, এ হৃদয় আমার সমর্পিত হয়েছিল ৷)
ম্যাঁয় নামুরাদ দিলকী
তসল্লী কো ক্যা করুঁ,
মানা,
কি তেরে রুখসে নিগহ্
কাময়াব হ্যায় ৷(আমার এ হতভাগ্য মনটাকে কি আর সান্ত্বনা
দেবো আমি ৷ অবশ্য মানি, তোমার সেই অভূতপূর্ব
সৌন্দর্য এক ঝলক দর্শনে আমার এ আঁখি সফল হয়েছে ৷)
থা খোয়াবসে খয়ালকো
তুঝসে মুয়ামলা,
যব আঁখ খুল গই
না জিয়াঁ থা না সুদ থা ৷(তোমার সাথে সম্বন্ধ সে ছিল আমার স্বপ্নের কল্পনার
তাই যখন আঁখি মেললাম, তখন না ছিল কোনো
লাভ না লোকসান ৷)
মুহব্বতমে নহীঁ হ্যায় ফর্ক
জীনে ঔর মরনেকা,
উসীকো দেখ কর জীতে হ্যায়
যিস্ কাফিরপে দম নিকলে ৷(প্রেমে কোনো তফাৎ নেই জীবন আর মৃত্যুর ৷
তাকে দেখেই বেঁচে থাকতে হয়, যে অবিশ্বাসীর নামে
আমার এ প্রাণ পর্যন্ত নিবেদিত ৷)
উনকো দেখে সে যো
আ যাতী হ্যায় মুহ্পর রওনক,
ওহ্ সমঝতে হ্যায় কি
বীমার কা হাল অচ্ছা হ্যায় ৷(তাকে দেখে আমার মুখের পরে যে আলো ফুটে ওঠে
তাই দেখে সে মনে করে রোগীর অবস্থা এখন বেশ ভালোই ৷)
ইক্ ইক্ কতরে কা
মুঝে দেনা পড়া হিসাব,
খুঁনে জিগর বদীয়তে
মিজগাঁনে ইয়ার থা ৷(আমায় এক এক বিন্দু অশ্রুর হিসাব দিতে হলো ৷
আমার রক্তাক্ত হৃদয় বন্ধকী ছিল প্রিয়তমার
আঁখিপল্লব ছায়ায় ৷)
কবও ওহ্ সুনতা হ্যায়
কহানী মেরী,
অওর ফির ওহভী
জবানী মেরী ৷(কবেই বা সে শোনে কাহিনী আমার আর সেই গল্প
কথা আমারই মুখে আবার ৷)
কিঁউ জ্বল গ্যায়া না তাবে রুখে য়ার দেখ কর
জ্বলতা হু আপনি তাকতে দিদার দেখ কর(প্রিয়র রূপের বিভায় কেন জ্বলে ছাই হলাম না!
নিজ দৃষ্টির শক্তি দেখে এখন নিজেই জ্বলে মরি!)
ঘর জাব বানা লিয়া তেরে দর পর কহে বাগ্যয়র
জানেগা আব ভি তু না মেরা ঘর কহে বাগ্যয়ী(তোমার দরজার সামনেই ঘর বনিয়ে নিয়েছি আমি
এবারও কি বলবে আমার ঘরের ঠিকানা জানো না তুমি!)
তুম মেরে পাস হোতে হো গ্যয়ে
যব কোই দুসরা নেহি হোতা(তুমি আমার সঙ্গেই থাকো, যখন
আর কেউ থাকে না পাশে)
হাতি কি লাকিরুপে মাত যা আয়ে গালিব
কিসমাত উসকি ভি হোতি হ্যায় জিসকা হাত নেহি হোতা(হাতের তালুতে ভাগ্য দেখতে যেয়ো না গালিব,
ভাগ্য তারও আছে যার হাত নেই)
জিন্দেগি আপনি যব ইস শকল্ সে গুজরি গালিব
হম ভি ক্যায়া ইয়াদ করেঙ্গে কি খুদা রাখতে থে(নিজের জীবন যখন এমনই বিবর্ণ, গালিব,
কী করে যে ভাবি, একদা আমাতেই ছিল স্রষ্টার বাস?)

ইশক পার জোর নেহি হ্যায় এহ ওহ আতিশ গালিব
কেহ লাগায়ে না লাগে আওর বুঝায়ে না বানে(ভালোবাসার ওপর জোর চলে না গালিব,
এটা সেই আগুন যা জ্বলালেও জ্বলে না আবার নিভালেও নিভে না)
দিল মেরা সোজ-এ নিহাঁ সে বে মুহবা জ্বল গ্যয়া
আতিশ-এ খামোশ কে মানিন্দ গোএআ জ্বল গ্যয়া(প্রেমের লুকানো তাপ কী নিদারুণ আহা হৃদয় পোড়াল
যেন ধিকিধিকি জ্বলন্ত আগুন ছাই হয়ে নিভে গেল)
ওয়াফুরে আশকানে কাশানে কা ক্যা ক্যা রঙ কে হো গায়ে
মেরে দিওয়ারো দর দরো দিওয়ার(চোখ উৎসাহ নিয়ে কেঁদে কেঁদে হয়ে গেছে লাল,
দেয়াল হয়ে গেছে দরজা, দরজা হয়ে গেছে দেয়াল)
হ্যায় অউর ভি দুনিয়া মে সুখনবর বহত আচ্ছে
ক্যহতে হ্যায় কি গালিব কা হ্যায় আন্দাজ-এ বায়াঁ অউর(পৃথিবীতে আরো অনেক বাগ্মী কবি রয়েছেন
কিন্তু শুনেছি গালিবের কবিতা না কি অন্য মাত্রার)
কাবাহ কিস মুহ ছে যায়োগে গালিব
শারাম তুম কো মাগার নেহি আতি(কোন মুখ নিয়ে কাবায় যাবে গালিব,
তোমার লজ্জা নেই?)
শোর-এ পান্দ-এ নাসিহ্ নে জখম পর নমক ছিড়কা
আপ সে কো-ই পুছে: তুম নে ক্যায়া মাজা পায়া(ধর্মপ্রচারকের নিন্দামন্দ আমার কাটা ঘায়ে লবণ ছিটাল
তাকে কেউ করো তো জিজ্ঞেস, কতটা সে আনন্দ পেল?)
(যখন আর কিছুই ছিল না তখন স্রষ্টা ছিল, যদি কিছু
না-ও থাকত স্রষ্টা থাকত
আমি ছিলাম বলেই ডোবাতে পারলে, যদি না থাকতাম
তবে কী করে পারতে?)
দিল-ই-নাদাঁ তুঝে হুয়া ক্যা হ্যায়,
আখির ইস দর্দ কি দাওয়া ক্যা হ্যায়?(ওরে আমার বোকা মন, তোর কী হয়েছে? এই ব্যথার শেষ পর্যন্ত কোনো ওষুধ কি আছে?)
হাম কো উন সে ওয়াফা কি হ্যায় উম্মীদ,
জো নেহি জান্তে ওয়াফা ক্যা হ্যায়।(আমরা তার কাছেই বিশ্বস্ততা আশা করি, যে কিনা জানেই না বিশ্বস্ততা জিনিসটা আসলে কী!)
তেরে ওয়াদে পার জিয়ে হাম, তো ইয়ে জান ঝুট জানা,
কি খুশি সে মার না জাতে, আগর এতবার হোতা।(তোমার প্রতিশ্রুতিতে বেঁচে আছি—এটা মিথ্যা জেনো। কারণ তোমার কথার ওপর যদি সত্যিই বিশ্বাস থাকত, তবে তো আমি খুশিতেই মরে যেতাম!)
আহ কো চাহিয়ে ইক উমর আসর হোনে তক,
কৌন জিতা হ্যায় তেরি জুলফ কে সার হোনে তক।(দীর্ঘশ্বাসের ফল পেতে তো এক জীবন লেগে যায়; তোমার জট পাকানো মন খুলতে খুলতে কে আর ততদিন বেঁচে থাকবে?)
ম্যায়নে মজনু পে লড়কপন মেঁ আসাদ,
সঙ্গ উঠায়া থা কি সর ইয়াদ আয়া।(ছোটবেলায় পাগল মজনুকে ঢিল মারার জন্য আমি যখন পাথর তুললাম, তখন হঠাৎ নিজের মাথার কথা মনে পড়ে গেল।)
নিন্দ উসকি হ্যায়, দিমাগ উসকা হ্যায়, রাতেঁ উসকি হ্যায়,
তেরি জুলফেঁ জিসকে শানে পার পরেশান হো গয়ি।(ঘুম তার, মস্তিষ্ক তার, রাতগুলোও কেবল তারই—যার কাঁধের ওপর তোমার ওই এলোকেশী চুল ছড়িয়ে পড়েছে।)
কাসিদ কে আতে আতে খত এক অউর লিখ রাখুঁ,
ম্যায় জানতা হুঁ জো ওয়ো লিখবেন জওয়াব মেঁ।(পিয়ন চিঠির জবাব নিয়ে আসার আগেই আমি আরেকটি চিঠি লিখে রাখছি; কারণ আমি জানি সে জবাবে আমাকে কী লিখবে।)

জিস রোজ কিসি আউর পে বেদাদ করোগে,
ইয়ে ইয়াদ রহে, হামকো বহুত ইয়াদ করোগে।(যেদিন তুমি অন্য কারও ওপর রাগ বা জুলুম করবে, মনে রেখো—সেদিন তুমি আমাকে খুব মিস করবে।)
ইয়ে না থি হামারি কিসমত কি বিসাল-এ-য়ার হোতা,
আগর অউর জিতে রেহতে ইয়েহি ইন্তেজার হোতা।(প্রিয়জনের সাথে মিলন আমার ভাগ্যে ছিল না। যদি আরও কিছুদিন বেঁচেও থাকতাম, এই অপেক্ষাই করতে হতো।)
ওহ আয়ে ঘর মেঁ হামারে, খুদা কি কুদরত হ্যায়,
কভি হাম উনকো, কভি আপনে ঘর কো দেখতে হ্যায়।(সে আমার গরিব ঘরে এসেছে—এ তো ঈশ্বরেরই মহিমা! আমি অবাক হয়ে কখনো তাকে দেখি, আর কখনো আমার ঘরকে দেখি।)
কোই উম্মীদ বার নেহি আতি,
কোই সুরত নজর নেহি আতি।(কোনো আশাই এখন আর পূরণ হওয়ার মতো মনে হচ্ছে না, কোনো পথ বা উপায়ও আর চোখে পড়ছে না।)
ইশক সে তবিয়ত নে জিসত কা মজা পায়া,
দর্দ কি দাওয়া পায়ি, দর্দ-এ-লা-দাওয়া পায়া।(প্রেমের কারণেই এই জীবনে বাঁচার আসল স্বাদ পেয়েছি; এর মাঝেই পেয়েছি ব্যথার ওষুধ, আবার পেয়েছি নিরাময়হীন ব্যথা।)
হুসন গামজে কি কশাকশ সে ছুটা মেরে বাদ,
বার হ্যায় ওয়াসল কি হাসরত মেঁ দুয়া মেরে বাদ।(আমার মৃত্যুর পর তার রূপের অহংকার আর কাউকে জ্বালানোর সুযোগ পাবে না; মিলনের আকাঙ্ক্ষা আমার সাথেই শেষ হয়ে যাবে।)
রঞ্জ সে খুগার হুয়া ইনসান তো মিট জাতা হ্যায় রঞ্জ,
মুশকিলেঁ মুঝপর পড়িঁ ইত্তি কে আসান হো গয়ি।(কষ্টে অভ্যস্ত হয়ে গেলে কষ্ট আর কষ্ট থাকে না। এত বেশি সমস্যা আমার উপর পড়েছে যে, এখন সব সহজ হয়ে গেছে।)
রনে সে অউর ইশক মেঁ বেবাক হো গয়ে,
ধোয়ে গয়ে হাম ইত্তে কি বাস পাক হো গয়ে।(প্রেমের বেদনায় কাঁদতে কাঁদতে আমরা আরও বেপরোয়া হয়ে গেছি। চোখের জলে নিজেকে এতটাই ধুয়েছি যে এখন একদম পবিত্র হয়ে গেছি।)
আগে আতি থি হাল-এ-দিল পে হাঁসি,
আব কিসি বাত পার নেহি আতি।(আগে নিজের মনের এই করুণ দশা দেখে হাসি পেত; কিন্তু এখন আর কোনো কিছুতেই হাসি আসে না।)
গাম আগারচে জান-গুসিল হ্যায়, পে কাঁহা বাচেন কে দিল হ্যায়,
গাম-এ-ইশক গার না হোতা, গাম-এ-রোজগার হোতা।(যদিও দুঃখ জীবন কেড়ে নেয়, তবুও বাঁচার উপায় কী, কারণ আমার একটা হৃদয় আছে। প্রেমের দুঃখ না থাকলে, সংসারের দুঃখ তো থাকতোই!)
ইয়া রাব ওয়ো না সমঝে হ্যায় না সমঝেঙ্গে মেরি বাত,
দে অউর দিল উনকো, জো না দে মুঝকো জবান অউর।(হে প্রভু! সে আমার কথা বোঝেনি, আর কখনো বুঝবেও না। হয় তাকে নতুন একটা হৃদয় দাও, নয়তো আমাকে নতুন একটা ভাষা দাও।)
কিস সে মেহকুর হুঁ ম্যায় ক্যা বাতাউঁ,
খুশিয়োঁ কে ইয়ে মারে ম্যায় ক্যা বাতাউঁ।(আমি যে কার থেকে দূরে সরে আছি, তা আর কী বলব! আমার আনন্দগুলো যে কীভাবে মারা গেছে, তা আর কীভাবে বোঝাবো!)

রাহিয়ে আব অ্যায়সি জঘ চল কর যাঁহা কোই না হো,
হাম-সুখান কোই না হো অউর হাম-জবান কোই না হো।(চলো এবার এমন কোথাও গিয়ে থাকা যাক, যেখানে কেউ থাকবে না; কেউ আমার সাথে কথা বলবে না, কেউ আমার ভাষা বুঝবে না।)
মুদ্দত হুই হ্যায় ইয়ার কো মেহমান কিয়ে হুয়ে,
জোশ-এ-কাদাহ সে বাজম চেরাগান কিয়ে হুয়ে।(অনেক দিন হয়ে গেল প্রিয়জনকে নিজের অতিথি বানাইনি; অনেক দিন হলো মদের আড্ডায় হাসিখুশির আলো জ্বালাইনি।)
ফির মুঝে দিদা-এ-তার ইয়াদ আয়া,
দিল জিগার তশনা-এ-ফারিয়াদ আয়া।(আবার আমার সেই ভেজা চোখের কথা মনে পড়ে গেল; আবার আমার হৃদয় ডুকরে কেঁদে ওঠার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠল।)
গাম-এ-হস্তি কা আসাদ কিস সে হো জুজ মার্গ ইলাজ,
শাম্মা হার রংগ মেঁ জলতি হ্যায় সাহার হোতে তক।(হে আসাদ, মৃত্যু ছাড়া জীবনের এই দুঃখের আর কী চিকিৎসা আছে? মোমবাতিকে তো সকাল হওয়া পর্যন্ত জ্বলতেই হয়।)
দর্দ মান্নাত কাশ-এ-দাওয়া না হুয়া,
ম্যায় না আচ্ছা হুয়া, বুরা না হুয়া।(আমার ব্যথা কোনো ওষুধের কাছে অনুগ্রহ চাইল না। আমি সুস্থ তো হলামই না, কিন্তু তাতে কোনো খারাপও হলো না!)
আতা হ্যায় দাগ-এ-হাসরাত-এ-দিল কা শুমার ইয়াদ,
মুঝসে মেরে গুনাহ কা হিসাব অ্যায় খুদা না মাংগ।(আমার হৃদয়ের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাগুলোর কথা মনে পড়লে দাগের মতো জ্বলে; হে ঈশ্বর, আমার কাছে আমার পাপের হিসাব আর চেয়ো না।)
কি মেরে কতল কে বাদ উসনে জফা সে তওবা,
হায় উস জওদ-পশেমান কা পশেমান হোনা।(আমাকে খুন করার পর সে অত্যাচার করা থেকে তওবা করল; হায়! এত তাড়াতাড়ি তার এই অনুশোচনা, বড্ড দেরিতে হলো।)
বোঝ উঠানে কো শব-এ-হিজর কি তাকাত নেহি হ্যায়,
দর্দ সে চুর হুঁ অউর আঁখ মেঁ নিঁদ নেহি হ্যায়।(বিচ্ছেদের রাতের এই ভারী বোঝা বইবার আর শক্তি আমার নেই; ব্যথায় শরীর ভেঙে যাচ্ছে, অথচ চোখে এক ফোঁটাও ঘুম নেই।)
কয়েদে হায়াৎ ও বন্দে গম আসল মেঁ দোনো এক হ্যায়,
মৌত সে পহলে আদমি গম সে নাজাৎ পায়ে ক্যুঁ?(জীবনের কারাগার আর দুঃখের বন্ধন—আসলে দুটোই এক। মৃত্যুর আগে মানুষ দুঃখ থেকে মুক্তি পাবেই বা কেন?)
হ্যায় কাঁহা তামান্না কা দুসরা কদম ইয়া রাব,
হামনে দস্ত-এ-ইমকান কো এক সুরাগ পায়া হ্যায়।(হে ঈশ্বর, মানুষের আকাঙ্ক্ষার দ্বিতীয় পা ফেলার জায়গা কোথায়? আমরা তো এই পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে কেবল এক পায়ের ছাপ বলেই মনে করি।)
হস্তি কে মাত ফারেব মেঁ আ জাইয়ো আসাদ,
আলাম তামাম হালকা-এ-দাম-এ-খায়াল হ্যায়।(হে আসাদ, অস্তিত্বের এই ধোঁকায় পা দিও না। এই পুরো জগতটাই আসলে মানুষের কল্পনার জালে বোনা একটা বিভ্রম মাত্র।)
সব কাঁহা কুছ লালা-ও-গুল মেঁ নুমায়া হো গয়ি,
খাক মেঁ ক্যা সুরাতেঁ হোগি কি পিনহা হো গয়ি।(সবাই তো আর টিউলিপ বা গোলাপ হয়ে ফিরে আসেনি! কে জানে, মাটির নিচে আরও কত সুন্দর সুন্দর মুখ লুকিয়ে আছে!)

হ্যায় আদমি বাজায়ে খুদ ইক মেহশর-এ-খায়াল,
হাম আনজুমান সমঝতে হ্যায় খিলওয়াত হি কিঁউ না হো।(মানুষ নিজেই তার নিজের চিন্তার মধ্যে এক বিশাল জনসমুদ্র। আমি নির্জনে থাকলেও মনে হয় আমি কোনো ভরা মজলিশে আছি।)
ইমান মুঝে রোকে হ্যায়, যো খেঁচে হ্যায় মুঝে কুফর,
কাবা মেরে পিছে হ্যায়, কালিসা মেরে আগে।(বিশ্বাস আমাকে আটকে রাখছে, আর অবিশ্বাস আমাকে সামনের দিকে টানছে। আমার পেছনে পড়ে আছে কাবা, আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে গির্জা।)
কাতরা কাতরা বহর-এ-বেকারাঁ হ্যায় মেহরি সে,
এক এক জরা আফতাব-এ-রোশন হ্যায়।(প্রেমের প্রভাবে প্রতিটি পানির ফোঁটাই এক অসীম সমুদ্র; প্রতিটি ধূলিকণাই যেন এক আলোকিত সূর্য।)
কঁহা ম্যায়খানে কা দরওয়াজা গালিব অর কাঁহা ওয়ায়েজ,
পার ইতনা জান্তে হ্যায় কাল ওয়ো জাতা থা কে হাম নিকলে।(কোথায় মদের দোকানের দরজা, আর কোথায় ধর্ম প্রচারক! তবে এতটুকু জানি, গতকাল যখন আমরা বের হচ্ছিলাম, তখন সে ভেতরে ঢুকছিল।)
আইনা দেখ আপনা সা মুঁহ লেকে রেহ গয়ে,
সাহাব কো দিল না দেনে পে কিতনা গুরুর থা।(আয়নায় নিজের মুখ দেখে সে বোকা বনে গেল; সাহেব তো কখনো কাউকে মন না দেওয়ার অহংকারে মত্ত ছিলেন!)
দেখনা তাকরীর কি লজ্জত কে জো উসনে কাহা,
ম্যায়নে ইয়ে জানা কি গোয়া ইয়ে ভি মেরে দিল মেঁ হ্যায়।(তার কথার এমন এক জাদুকরী স্বাদ ছিল যে, সে যা-ই বলছিল, আমার মনে হচ্ছিল—আরে! ঠিক এই কথাটাই তো আমার হৃদয়েও ছিল!)
হর এক বাত পে কহতে হো তুম কি তু ক্যা হ্যায়,
তুমহি কহু কে ইয়ে আন্দাজ-এ-গুফতুগু ক্যা হ্যায়।(আমার প্রতিটি কথাতেই তুমি তাচ্ছিল্য করে বলো, ‘তুই আবার কে?’ তুমিই বলো, কথা বলার এই কেমন স্টাইল!)
বক রাহা হুঁ জুনুন মেঁ ক্যা ক্যা কুছ,
কুছ না সমঝে খুদা কারে কোই।(পাগলের মতো প্রলাপ বকে কত কী যে বলছি! ঈশ্বর করুন, আমার এই কথাগুলো যেন কেউ না বোঝে।)
হাজার শাম-এ-ফারোজাঁ হোঁ তো ক্যা হ্যায়,
বিনা এক রৌশনি কে সব আন্ধেরা হ্যায়।(হাজারটা জ্বলন্ত বাতি থাকলেও বা কী আসে যায়; মনের সেই একটি বিশেষ আলো না থাকলে সবই তো অন্ধকার।)
না শুনো গর বুরা কাহে কোই,
না কাহো গর বুরা কারে কোই।(কেউ যদি খারাপ কথা বলে, তবে তা শুনো না; কেউ যদি খারাপ কাজ করে, তবে তাকে খারাপ বোলো না।)
মেহেরবাঁ হো কে বুলা লো মুঝে চাহো যিস ওয়াক্ত,
মেঁ গায়া ওয়াক্ত নেহি হুঁ কে ফির আ ভি না সকুঁ।(অনুকম্পা হলে ডেকে নিও আমায়, যখনই তোমার ইচ্ছে হয়—আমি তো আর ফেলে আসা অতীত নই, যে ফিরে আসতে পারব না!)
সব কো মকবুল হ্যায় দাবা ও হর এক বাত মেরি,
পর হ্যায় কুছ বাত যো বদনাম করতি হ্যায় মুঝে।(সবাই আমার সব কথা আর দাবি মেনে নেয়, কিন্তু এমন কিছু কথা আছে যা আমাকে বদনাম করে দেয়।)
দোস্ত গামখোয়ারি মেঁ মেরি সায়ি ফরমায়েঙ্গে ক্যা,
জখম কে ভরনে তলক নাখুন না বাড় জায়েঙ্গে ক্যা?(বন্ধুরা আমার দুঃখ লাঘবের আর কী চেষ্টা করবে? আমার এই ক্ষত শুকাতে শুকাতে কি নখগুলো বড় হয়ে যাবে না?)

হাম ওয়াহা হ্যায় যাঁহা সে হামকো ভি,
কুছ হামারি খবর নেহি আতি।(আমি এখন জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, যেখান থেকে আমার নিজের কোনো খবরই আর আমার কাছে এসে পৌঁছায় না।)
করজ কি পিতে থে মে অউর সমঝতে থে কে হাঁ,
রং লায়েগি হামারি ফাকা-মস্তি এক দিন।(ধার করে মদ খেতাম আর ভাবতাম, হ্যাঁ—আমাদের এই অভাবের আনন্দ একদিন ঠিকই বড় কোনো রং ছড়াবে।)
মরনে কি দুয়ায়েন ক্যু মাঙ্গু,
জিনে কি তামান্না কিসকো হ্যায়।(মৃত্যুর জন্য আমি প্রার্থনা করতে যাব কেন? বেঁচে থাকার ইচ্ছাই বা আর কার আছে!)
ম্যায় অউর বজম-এ-মে সে য়ুঁ তিশনা-কাম আউঁ,
গার ম্যায়নে কি থি তওবা, সাকি কো ক্যা হুয়া থা।(আমি মদের আসর থেকে তৃষ্ণার্ত হয়ে ফিরে এলাম! আমি না হয় পান না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কিন্তু মদ পরিবেশনকারীর কী হয়েছিল?)
ফির ইস আন্দাজ সে বাহার আয়ি,
কি হুয়ে মেহর-ও-মাহ তামাশাই।(এবার এমন দারুণ ভঙ্গিতে বসন্ত এসেছে যে, আকাশ থেকে সূর্য আর চাঁদও দাঁড়িয়ে এই তামাশা দেখছে।)
ধুল গয়ে দাগ-এ-শিকায়ত আস্ক-এ-খুনি সে মেরে,
খত গয়া লেকিন রোকুম রওসন হো গয়ে।(আমার রক্তের অশ্রুতে সব অভিযোগের দাগ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।)
কিসকো দেঁ জান, কে কুছ জান মেঁ কুয়াত হি নেহি,
জিসকো দেঁ দিল, ওয়ো দিলি মেঁ নেহি।(কাকে আমি নিজের জীবন দেব, জীবনে তো আর কোনো শক্তিই অবশিষ্ট নেই! আর যাকে আমি মন দেব, সে তো দিল্লিতেই নেই।)
কাম উস সে আ পাড়া হ্যায় কে জিসকা মাকান হ্যায়,
ইয়ে দিল কি জিসকা নাম মাকান-এ-খরাব হ্যায়।(আজ তার সাথেই আমার দরকার পড়েছে, যে কিনা আমার এই ধ্বংসপ্রাপ্ত মনের মালিক।)
হুই মুদ্দত কে গালিব মার গয়া পার ইয়াদ আতা হ্যায়,
ওয়ো হার এক বাত পার কহনা কে য়ুঁ হোতা তো ক্যা হোতা।(গালিব মারা গেছে অনেক দিন হলো; কিন্তু তার সেই কথাটা খুব মনে পড়ে—প্রতিটি বিষয়ে তার বলা ‘এমনটা হলে কী হতো!’)
কুছ তো পড়িয়ে কে লোগ কহতে হ্যায়,
আজ গালিব গজল-সারা না হুয়া।(কিছু তো পাঠ করুন, কারণ মানুষ বলাবলি করছে যে আজ গালিব কোনো গজল গাইল না কেন?)
হাসিল-এ-উলফত নেহি জুজ দর্দ-এ-বে-দারমান আসাদ,
আপনে হি ঘায়েল কে পার মেঁ উড় গ্যায়া অ্যায়সে তীর।(ভালোবাসায় নিরাময়হীন ব্যথা ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই আসাদ!)
হাওয়া-এ-সায়ের-এ-গুল আইনা-এ-বে-মেহরি-এ-ক্বাতিল,
কে মাকতুল কে খুন সে হো গ্যায়া হ্যায় লালা-জার আপনা।(এই পৃথিবীর বাগানের বাতাস কেবল হত্যাকারীর নির্দয়তার আয়না; নিহতদের রক্তেই আজ এই ফুলবাগান সেজে উঠেছে।)
মায়খাদা খুল গ্যায়া হ্যায়, সাবু লাতে হ্যায় লোক,
হ্যায় ইয়াদ-এ-ইয়ার-এ-মেহরবান, দিওয়ানে কিঁউ নেহি।(মদের দোকান খুলে গেছে, মানুষ পাত্র নিয়ে আসছে; দয়ালু বন্ধুর কথা মনে পড়ছে, তো আমি পাগল হবো না কেন?)

দর্দ জাব হদ সে গুজর জাতা হ্যায় তো দাওয়া হো জাতা হ্যায়,
গাম জাব বে-হদ হো জাতা হ্যায় তো খুশি হো জাতা হ্যায়।(ব্যথা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটাই ওষুধ হয়ে দাঁড়ায়। দুঃখ যখন অসীম হয়ে যায়, তখন তা আনন্দ বলে মনে হয়।)
আতা হ্যায় ইয়াদ মুঝকো গুজরা হুয়া জামানা,
ওয়ো বাগ কি বাহারেঁ ওয়ো সবকা চেহচাহানা।(আমার সেই ফেলে আসা পুরনো দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে; সেই বাগানের বসন্ত, আর পাখিদের সেই কলকাকলি।)
যিন্দেগি য়ুঁ ভি গুজর হি জাতি,
কিঁউ তেরা রাহগুজার ইয়াদ আয়া।(জীবন তো এভাবেই কোনো না কোনোভাবে কেটে যেত; অযথাই তোমার ফেলে যাওয়া পথের কথা মনে পড়ে গেল!)
রোহ্ মেঁ হ্যায় রাক্স-এ-শাওর-এ-জুনুন-এ-নাজুক,
ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কে খয়াম কি রুবাই হ্যায়।(আমার চেতনার গভীরে এক অদ্ভুত পাগলামি নাচছে; এটা কি আমার জীবন, নাকি ওমর খৈয়ামের কোনো কবিতা!)
আব রাত ভি হ্যায় কুছ এয়সা কি গম খাতে নহিঁ বনতে,
বাহুত সোচা কি জালিম পর গালিব কুছ নহিঁ বনতে।(এখন অনেক রাত। চারদিকে অন্ধকার; কোথাও কেউ নেই। চলো গালিব! তার বাড়ির দেওয়ালে চুমু দিয়ে আসো।)
তেরে কোচে হার বাহানে মুঝে আব নিকালনা হ্যায়,
ইয়ে বাহানা ঢুন্ডনা হ্যায় কে বাহানা ক্যা বানায়ু।(তোমার গলিতে যাওয়ার জন্য আমার এখন একটা বাহানা দরকার; আমি শুধু এই বাহানাই খুঁজছি যে কী বাহানা বানানো যায়!)
আশিকি সবর তলব অউর তামান্না বেতাব,
দিল কা ক্যা রংগ কারুঁ খুন-এ-জিগর হোতে তক।(প্রেম দাবি করে ধৈর্য, আর আকাঙ্ক্ষা হলো অস্থির। কলিজা রক্ত হওয়া পর্যন্ত আমি এই মন নিয়ে কী করব?)
ইশক নে তোড়া হ্যায় দিল કો, ক্যা বাতায়েঁ তুমকো গালিব,
জিসমেঁ হাম জিন্দা থে, আব ওয়ো মাকান টুট গ্যায়া।(প্রেম আমার হৃদয়কে এমনভাবে ভেঙেছে যে তোমাকে আর কী বলব গালিব, যে ঘরে আমি বেঁচে ছিলাম, সেটাই ভেঙে গেছে।)
হর চাঁদ হো মুশাহাদা-এ-হক কি গুফতগু,
বনতি নেহি হ্যায় বদা-ও-সাগর কাহে বগায়র।(যতই পরম সত্য বা ঈশ্বরের দর্শন নিয়ে আলোচনা হোক না কেন, মদ আর পেয়ালার উদাহরণ ছাড়া সে কথা যেন জমেই না!)
চালনা হ্যায় তো চল মেরি জানান মেরি জানান,
রাহ মেঁ কাহিঁ কোই রুকতা নেহি হ্যায়।(চলতে হলে চলো আমার প্রিয়তমা; কারণ জীবনের এই পথে কেউই তো কোথাও থেমে থাকে না।)
উন কি জেফা সে ক্যা গিলা, আপনি ওয়াফা সে ক্যা গিলা,
উনকি জেফা মেঁ মজা, আপনি ওয়াফা মেঁ মজা।(তার জুলুমের কী অভিযোগ করব, আর আমার বিশ্বস্ততারই বা কী অভিযোগ! তার অত্যাচারে এক মজা, আর আমার ভালোবাসায় আরেক মজা।)
ফির কুছ ইস দিল কো বে-করারী হ্যায়,
সিনা জুঁইয়া-এ-জখম-এ-কারি হ্যায়।(এই মনে আজ আবার কেমন যেন এক অস্থিরতা শুরু হয়েছে; বুকটা যেন আবার কোনো গভীর ক্ষতের সন্ধান করছে।)

পিনে দে শারাব মসজিদ মেঁ ব্যায়ঠ কর,
ইয়া ওয়ো জায়গাহ বাতা যাঁহা খুদা নেহি হ্যায়।(আমাকে মসজিদে বসেই মদ খেতে দাও গালিব; আর না হয় আমাকে এমন কোনো জায়গার কথা বলো যেখানে ঈশ্বর নেই!)
বে-খুদি বে-সবব নেহি গালিব,
কুছ তো হ্যায় জিসকি পর্দা-দারি হ্যায়।(আমার এই বেসামাল অবস্থা বা আত্মভোলা হওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে গালিব; কিছু একটা তো আছে যা আমি গোপন করার চেষ্টা করছি।)
তুমহারি ইয়াদ কে জাব জখম ভরনে লাগতে হ্যায়,
কিসি বাহানে তুমহে ইয়াদ কারনে লাগতে হ্যায়।(তোমার স্মৃতির ক্ষতগুলো যখন শুকাতে শুরু করে, তখন আমি কোনো না কোনো বাহানায় আবার তোমাকে মনে করতে শুরু করি।)
দিল সে তেরি নিগাহ জিগার তক উতার গয়ি,
দোনো কো ইক আদা মেঁ রাজামন্দ কর গয়ি।(তোমার ওই দৃষ্টি হৃদয় ভেদ করে একেবারে কলিজা পর্যন্ত নেমে গেল; এক পলকেই সে দুটোকেই নিজের বশে করে নিল।)
এছাড়াও মির্জা গালিবের সেরা উক্তিসমূহ দেখতে পারেন ভিন্ন পোস্টে থেকে। আর আমরা প্রায় ই এই ধরনের
